Thursday, March 15, 2018

প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-৭ (রোম)



রোম শহরের এক প্রান্তে ভিলা বর্গিস নামের বিশাল এক বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বাচ্চাদের জন্যে চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন রাইড, মিউসিয়াম, লেক ছাড়াও সময় কাটানোর অনেক ব্যবস্থা রয়েছে। সারাদিন এখানে কাটিয়ে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নামলেই পাওয়া যায় পিয়াজ্জা স্প্যাগনা। সন্ধ্যায় সময় কাটানোর জন্যে এক অপূর্ব ব্যবস্থা।

রোমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো হলো- কলোসিয়াম, পিয়াজ্জা ভেনেজিয়া, ক্যাপিটলিনে মিউসিয়াম, ত্রেভি ফাউন্টেন, পিয়াজ্জা নাভোনা, পিয়াজ্জা পোপোলসহ আরো অনেক জায়গা। কলোসিয়াম, পিয়াজ্জা ভেনেজিয়া, ক্যাপিটলিনে মিউসিয়াম এই তিনটার জন্যে একটু বেশি সময় রাখতেই হবে।











স্থানীয় ইতালিয়ান খাবার খেয়ে দেখতে চাইলে চলে যেতে হবে টিবের নদীর পশ্চিম পাড়ে ত্রেস্টভরে এলাকায়। জায়গাটা রোমের পুরাতন এলাকা নামে পরিচিত। টিবের নদীটার তেমন কোনো বিশেষত্ব চোখে পড়লো না। বাংলাদেশের একটা খালের মতো, কিন্তু নদীর দুই ধার বাঁধিয়ে আর আলোকসজ্জা করে এটাকেও ওরা চরম নান্দনিক একটা পর্যটন আকর্ষনে রূপ দিয়েছে।

রোম শহরের কেন্দ্র বিন্দু বলা যাই টার্মিনি স্টেশনটাকে। এখানে প্রচুর দোকানে বাংলাদেশী দেখতে পাওয়া যাবে। বাঙালি খাবারের দোকানও আছে। রোমে একাধারে মেট্রো রেল, সিটি বাস এবং ট্রাম সার্ভিস রয়েছে। যারা কলকাতায় গিয়েছেন তারা তো ট্রামের সাথে পূর্ব পরিচিত। ইতালির মতো মাটির নিচ দিয়ে মেট্রো রেল আর উপর দিয়ে ট্রাম সার্ভিস দুটো একই সাথে বিদ্যমান এমন শহর মনে হয় খুব বেশি নেই। রোম শহর দেখে সহজেই অন্যান্য ইউরোপিয়ানদের থেকে এটাকে পৃথক করা যায়। ইউকে আর স্পেনে ওদের রাস্তা ঘাট যেমন ঝকঝকে, ফুটপাথ গুলো প্রশস্ত ছিল, এখানে তেমন না। রাস্তা গুলো অনেক সরু, অনেক জায়গাতে ফুটপাথ নেই। হয়তো জনসংখ্যা এই শহরে বেশি হওয়াতে এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলোর কারনে রাস্তা প্রশস্ত করতে পারেনি। তাই বলে ওরা বসে থাকে নি। পর্যটন আকর্ষণের জন্যে যা করার তার সবই করেছে।


















ভুমধ্য সাগরের উত্তর এবং পশ্চিম তীরে উড়োজাহাজে প্রায় ৪৩০০ কিঃ মিঃ, ট্রেনে ৭০০ কিঃ মিঃ এবং বাসে প্রায় ২০০ কিঃ মিঃ ঘুরে ফেললাম। ঘুরতে ঘুরতে প্রায়ই নিজের দেশের সাথে তুলনা চলে আসছিলো। এখন লিখতে গিয়েও তা আরো অবধারিত ভাবে এলো। সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সুযোগ থাকার পরেও আমরা এখনো পারিনি। ইউরোপের মানুষের কাছে আমাদের পার্শ্ববর্তী থাইল্যান্ড এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ। তাই বলে বলছিনা যে আমাদের থাইল্যান্ডকে অনুসরণ করা উচিত। আমাদেরটাতো আমাদের মতোই হওয়া উচিত। অন্যদের যা আছে আমাদের তা নেই আর আমাদের যা আছে অন্যদের তা নেই। আমাদের ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি অবজ্ঞা করে কিছু করতে গেলে তা শুধু উন্নয়নের নামে অনুসরণ করাই হবে, যেটাকে কোনো ভাবেই টেকসই উন্নয়ন বলা যায় না। নদীমাত্রিকতা আর সংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এই দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আমরাও একটা ঈর্ষণীয় পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। তবে খেয়াল রাখতে হবে নান্দনিকতা আর সার্বজনীনতা এই দুটো বিষয়ে যেন কোন ছাড় না দেয়া হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে পর্যটনের মূল উপাদান এদুটোই।


Related Post
প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-৫ (বার্সেলোনা)
প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-৬ (ভ্যাটিকান সিটি, রোম)





No comments:

Translate