Wednesday, November 1, 2017

প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-২ (মাদ্রিদ)



১২ জানুয়ারী দিবাগত রাতে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পৌঁছে আগে থেকে বুকিং দেয়া হোস্টেল কাসানোভাতে উঠি। রাতের বেলা এক বুড়ো থুরথুরে দাদু হোটেলের গেট খুলে দিলেন। তিনি ইংরেজির ই-ও বোঝেন না। আমার নাম বলাতে বুকিং কাগজ দেখে আমাদের রুম দেখিয়ে দিলেন আর দরজা খোলা এবং লক করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন। সবই হলো ইশারায়। গভীর রাতে প্রয়োজন-অপ্রয়োজন কোনো কথা বলতে না পেরে একটু মুশরেই পড়েছিলাম কিন্তু সকালে যখন হোটেল থেকে বাইরে বের হলাম উজ্জ্ব্ল রোদ আর তাপ পেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেলো। ইউকে তে বছরের এই সময়ে রোদ্দুর তো দূরের কথা মেঘমুক্ত আকাশ দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। যাই হোক, প্রথমে গেলাম প্রাডো মিউসিয়ামে। মাদ্রিদে গিয়ে থাকলে, যারা চিত্র কর্ম ভালোবাসেন না তাদেরও উচিত একবার এখানে আসা। মিউসিয়ামটা চিত্র কর্ম আর ভাস্কর্যে ঠাসা। বেশির ভাগ চিত্র কর্ম ৩০০-৫০০ বছর পুরাতন। কেমন ছিল ১৫ শতকের সেই সময়ের শিশুদের জীবন, তাদের যুদ্ধ পরিচালনা, সমাজ ব্যবস্থা, এসব তৎকালীন শিল্পীরা একে রেখে গেছেন। চিত্র কর্ম দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম স্পেনের সমাজ ব্যাবস্থায় একটু স্থূল আকৃতির নারীরাই ছিল বোধয় সৌন্দর্যের প্রতিক (অবশ্য একেবারেই আমার ব্যাক্তিগত ধারণা)। প্রায় আড়াইদিনের মাদ্রিদ ভ্রমণে গেলাম রেটিরও পার্কে, মাদ্রিদ প্যালেস, দেবত মন্দির, প্লাজা মেয়র, প্লাজা পুয়ের্তো ডেল সল, সান মাগুইল মার্কেট। প্লাজা পুয়ের্তো ডেল সল নাকি সমগ্র স্পেন এর কেন্দ্র বিন্দু। গভীর রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এর কাছের একটা kfc তে প্রথমদিন সন্ধ্যায় এক বাঙালি পরিবারের সাথে পরিচয় হলো, তাদের কাছ থেকে বাঙালি খাবার হোটেলের ঠিকানা নেই। পরদিন রাতে ওই ঠিকানা খোঁজ করে গেলাম। জায়গাটার নাম লাভাপিয়েস। এলাকাটা মাদ্রিদের বাঙালি পাড়া নামেই পরিচিত। মাকসুদ নামের এক বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী ভাই বাংলা হোটেল চিনিয়ে দিলেন। মাদ্রিদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা বেশ ভালো। অল্প খরচে ঘুরে বেড়াবার জন্যে মেট্রো রেলই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবস্থা মনে হয়েছে। তবে চিন্তার বিষয় হলো কেউ ইংরেজি বলে না। অবশ্য এদের পাবলিক প্লেসে তথ্য গুলো চিহ্ন দেখে সহজেই বুঝতে পারা যায়। স্থানীয় খাবার চেখে দেখাটা ভ্রমণের একটা অংশ। এইরকম আগ্রহ থাকলে সান মাগুইল মার্কেটে যাওয়া যেতে পারে। হরেক রকমের খাবার এখানে পাওয়া যায়। মাদ্রিদের আরেকটা বিখ্যাত খাবার হলো চুড়ো চকলেট। এক কাপ চকলেট এর মধ্যে চুড়ো ডুবিয়ে খাওয়া। পুয়ের্তো ডেল সল এর কাছাকাছি Chocolatería San Ginés দোকানটা চুড়ো চকলেট এর জন্য বিখ্যাত। এটা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে।

মাদ্রিদ প্যালেস (In front of Madrid Palace)






মাদ্রিদ প্যালেস (Madrid Palace)

প্রাডো মিউসিয়াম (Museo Nacional Del Prado)

রেটিরও পার্ক (El Retiro Park)

প্লাজা মেয়র (Plaza Mayor)


দেবত মন্দির (Debod Temple)


                                                                              [চলবে]... ..

Related Post

প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-১ (প্রস্তুতি)
প্লাজা-পিয়াজ্জা'র দেশে; পর্ব-৩ (সেভিল)




No comments:

Translate