Monday, June 19, 2017

স্পেন এর প্লাজা আর ইতালির পিয়াজ্জা



যুক্তরাজ্যের ঠান্ডাকে হার মানাতে না পারার ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটিতে ঘুরে এলাম স্পেন আর ইতালি। একটি হলো ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনায় ইউরোপের সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ দেশ, আরেকটি হলো ইউরোপিও সভ্যতার আদিভূমি। এই দুই দেশে পর্যটকদের জন্যে নানা বৈচিত্র থাকলেও, দুটো বিষয়ে সামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়, তা হলো আনাচে-কানাচেতে ওরা গড়ে তুলেছে জাদুঘর আর প্লাজা বা পিয়াজ্জা। স্প্যানিয়ার্ডরা বলে প্লাজা আর ইতালিতে পিয়াজ্জা।

প্লাজা বা পিয়াজ্জা হলো একটা খোলা জায়গা, কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনের খোলা প্রান্তর। সহজ ভাষায় আমরা যেটাকে চত্বর বলি। এদের কোনোকোনোটা আবার একেকটা বড়ো স্টেডিয়ামের সমান। এই প্লাজা বা পিয়াজ্জা গুলো গভীর রাত অব্দি পর্যটকে ঠাসা থাকে। এখানকার মেঝে গুলো বড় বড় পাথুরে অমসৃণ টাইলস দিয়ে বাঁধানো। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের ফুয়ারা, তাতে আবার আলোকসজ্জা করা। লোকজন ফুয়ারার ধারে, চত্বরের সিড়িতে বসে হাসছে, গল্প করছে আর কৃত্তিম ফুয়ারা এবং আলোকসজ্জার সৌন্দর্য উপভোগ করছে, সেই সাথে চলছে জাদু এবং শারীরিক বিভিন্ন কসরত প্রদর্শনী, যেটাকে ইংরেজিতে বলে স্ট্রিট শো। এভাবে শহরবাসীর সারাদিনের পরিশ্রম এবং পর্যটকদের ক্লান্তি ফুয়ারাগুলোর শীতল স্পর্শে আর নিয়ন আলোতে ধুয়ে-মুছে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো প্লাজা বা পিয়াজ্জার মধ্যে কোনো খাবার দোকান বা পানশালা নেই, কেউ ফেরি করে খাবার বিক্রিও করে না। দোকানপাট সব চত্বরের বাইরে। তাই প্লাজা গুলোর মেঝে পরিষ্কার ঝকঝকে।

(Plaza Mayor, Madrid)

(Plaza Isobel la Catolica, Granada)






(Plaza De Espana, Sevile)

(Pizza Navona, Rome)

(Pizza Del Popolo, Rome)

(Trevi Fountain, Rome)

(Piazza Spagna, Rome)

আমাদের দেশেও ঢাকা শহরে এরকম প্লাজা বা পিয়াজ্জা সংস্কৃতি দেখা যায় যেমন শাহবাগ চত্বর, টিএসসি চত্বর। কিন্তু এগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রছাত্রীকেন্দ্রিক। তাই সন্ধ্যার পর প্রায় সকল বড় শহর গুলোতেই নগরবাসীকে রাস্তার ধারে, রাস্তা দখল করা চায়ের দোকানে, ফুচকার দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই আশাব্যঞ্জক নয়। রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি, যত্রতত্র উচ্ছিষ্ট খাবার আর আবর্জনার স্তুপ। অসচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এতো সুন্দর একটা স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনকে আমরা স্বীকৃত একটা রূপ দিতে পারিনি। স্বভাবতই বাঙালি আড্ডা প্রিয়, তাই বাঙালির এই স্বতঃস্ফূর্ত চর্চাকে রাষ্ট্রীয় ভাবে কিছুটা প্রণোদনা দেয়াই যেতে পারে। আমাদের সিটিকর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলো প্রতিদিন সকালে রাস্তা, ফুটপাথ পরিষ্কার করতে প্রচুর জনশক্তি আর অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। পরিকল্পনা করে শহর গুলোতে দুএকটা স্থান নির্বাচন, একটু সৌন্দর্য বর্ধন আর জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এই প্রতিষ্ঠান গুলো নিজ নিজ শহরবাসীর আস্থা অর্জন করার সাথে সাথে নিশ্চিতভাবে কিছু অর্থ অপচয়ও রোধ করতে পারতো বলে মনে হয়।





No comments:

Translate